https://www.cpmrevenuegate.com/r9dcz69h0?key=7a43e6599cc4534aa41bf2369a99c43b কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি এবং অন্যান্য ৮ জেলার বন্যার কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদদের মতামত: - News24

কুমিল্লা, ফেনী, খাগড়াছড়ি এবং অন্যান্য ৮ জেলার বন্যার কারণ সম্পর্কে আবহাওয়াবিদদের মতামত:

 




প্রতি মাসের শুরুতে আবহাওয়া অধিদপ্তর সেই মাসের আবহাওয়া পরিস্থিতি সম্পর্কে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাস প্রদান করে। চলতি মাসের শুরুতে দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, মাসে দেশের উত্তরাঞ্চল, উত্তরমধ্যাঞ্চল এবং দক্ষিণপূর্বাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে অতিবৃষ্টির কারণে বন্যা হবে বলে জানানো হয়েছিল। বর্তমানে উত্তরমধ্যাঞ্চলের মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী বন্যার কবলে পড়েছে।

 

মোটকথা, এখন দেশের আটটি জেলা বন্যার কবলে পড়েছে। এসব জেলা হলো কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া। Read More

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ত্রাণ মন্ত্রণালয় সূত্র আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে জানায়, বন্যায় দেশের জেলার ৩৫৭টি ইউনিয়ন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছে লাখ ৪০ হাজার ৮৪০টি পরিবার, এবং মোট ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯ লাখ হাজার ৯৬৪। এখন পর্যন্ত দুজনের মৃত্যু হয়েছেএকজন ফেনীতে এবং অপরজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়।

 


বন্যার কারণ সম্পর্কে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান প্রথম আলোকে জানান, উত্তরপূর্বাঞ্চল এবং দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের প্রধান সাতটি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তৈরি করেছে। এসব অঞ্চলে বৃষ্টি শুরু হয় ১৬ আগস্ট থেকে, এবং ১৮ আগস্টে সাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপ স্থলে প্রবেশ করে। পরে এই লঘুচাপ বাংলাদেশের মধ্যাঞ্চলে প্রবল বৃষ্টিপাত ঘটায়, বিশেষ করে বাংলাদেশের দক্ষিণপূর্বাঞ্চল এবং ভারতের ত্রিপুরা অঞ্চলে। Read More

 

সরদার উদয় রায়হান আরো জানান, বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত, সাগরের লঘুচাপ এবং পূর্ণিমার কারণে সাগরের জোয়ার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ছিল, যা বৃষ্টির পানি নামার প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করেছে।

বন্যার কারণে বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। উজানের প্রবল বৃষ্টিপাতের ফলে মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া এবং দক্ষিণপূর্বাঞ্চলের কুমিল্লা, ফেনী, চট্টগ্রামের নদীবাহিত নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

 


আজ দুপুরে মৌলভীবাজারের মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৫ সেন্টিমিটার, হবিগঞ্জের খোয়াই নদীর পানি ১৯৫ সেন্টিমিটার, কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি ৭৭ সেন্টিমিটার এবং ফেনীর পরশুরামে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৫৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। Read More

 

গত ২৪ ঘণ্টায় ভারতের ত্রিপুরা এবং বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হয়েছে, যা নদীর পানি বৃদ্ধি এবং বন্যা পরিস্থিতির অবনতি করেছে।

 

এই অঞ্চলে অতীতে বন্যার রেকর্ড থাকলেও, এবারের পরিস্থিতি বাংলাদেশের এবং উজানের অন্যান্য বছরের তুলনায় আরও গুরুতর।

বন্যার তীব্রতা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে জানান উদয় রায়হান। তিনি বলেন, কিছু কিছু পয়েন্টে নদীর পানির উচ্চতা অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, খোয়াই নদীতে ৬০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পানি প্রবাহ দেখা গেছে। শুধু বাংলাদেশেই নয়, উজানে মনু নদ ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যে ইতিহাসের সর্বোচ্চ স্তরে প্রবাহিত হচ্ছে। কারণে এবারের বন্যা অত্যন্ত তীব্র। বন্যার প্রধান কারণ অতিবৃষ্টি, যা সাগরে লঘুচাপ এবং পূর্ণিমার প্রভাবে আরো বাড়ছে। পূর্ণিমার কারণে জোয়ারের পানি কমে যাওয়ার প্রবণতা কমে গিয়েছে। Read More

 


সরদার উদয় রায়হান আরও জানান, অতি ভারী বৃষ্টিপাত বন্যার মূল কারণ। এর সঙ্গে লঘুচাপ, মৌসুমি বায়ু এবং সাগরের জোয়ারও প্রভাবিত করেছে।

 

ভারতের বাঁধ নিয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে তথ্য আদান-প্রদানের ব্যবস্থা নেই বলে জানান উদয় রায়হান। তবে তিনি বলেন, দুই উজানের পানি প্রবাহের তথ্য আদান-প্রদান অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের সীমান্ত থেকে ৮০ কিলোমিটার দূরে গোমতী নদীর ত্রিপুরার ওমরপুর পয়েন্টের পানির তথ্যসহ অন্যান্য নদীর তথ্য বাংলাদেশ পেয়ে থাকে। তবে বাঁধ সংক্রান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায় না। Read More


প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান আশা করেন, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতির অনেকটা উন্নতি হতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ কে এম নাজমুল হক প্রথম আলোকে বলেন, বন্যা বা জলাবদ্ধতা কতটা হবে তা মূলত উজানে কতটুকু বৃষ্টি হচ্ছে তার ওপর নির্ভর করে। কয়েক দিন ধরে উজানে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরের বৃষ্টিপাতের তুলনায় বন্যা পরিস্থিতিতে থেকে ১০ শতাংশ অবদান রাখে। উজানের ভারী বৃষ্টির পাশাপাশি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে আমাদের দেশে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। আগামী দুএক দিনে উজানে ভারী বর্ষণ অব্যাহত থাকতে পারে, তবে বাংলাদেশের অভ্যন্তরের ফেনী বা কুমিল্লা অঞ্চলে ভারী বর্ষণের প্রবণতা আগামীকাল বিকেল থেকে কমে আসতে পারে। Read More

গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে কুমিল্লার ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকায় গোমতী নদীর বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। ঘটনা ঘটে গতকাল বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টায়। বাঁধ ভাঙার ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে ছুটাছুটি করতে গিয়ে দুজন আহত হয়েছেন।

 

প্লাবিত গ্রামগুলো হল: বুড়বুড়িয়া, খাড়াতাইয়া, নানুয়ার বাজার, কিং বাজেহুরা, মিথিলাপুর, শিকারপুর, মহিষমারা, ইছাপুরা, পয়াত, গাজীপুর, কণ্ঠনগর, মাওরা, গোপীনাথপুর, জগৎপুর এবং গোসাইপুর। Read More

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) কুমিল্লার নির্বাহী প্রকৌশলী খান মোহাম্মদ ওয়ালিউজ্জমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গতকাল সন্ধ্যার পর থেকে ওই এলাকার নিচ দিয়ে পানি বের হচ্ছিল। স্থানীয়রা বালুর বস্তা দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন, কিন্তু রাত পৌনে ১২টার দিকে বাঁধ ভেঙে পানি লোকালয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে।

 

পাউবো কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গত দুই দিনে পানির উচ্চতা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। গতকাল বিকেলে পানি বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার উচ্চতায় পৌঁছে। ১৯৯৭ সালে নদীটির পানি বিপৎসীমার ৯৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। Read More

পানির তোড়ে বাঁধ ভাঙার খবর পেয়ে বাঁধের আশেপাশের শতাধিক পরিবার তাদের ঘর থেকে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। আজ শুক্রবার সকাল আটটায় সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, বুড়বুড়িয়া গ্রামের শতাধিক বাসিন্দা বাড়িঘর হারিয়ে দিশাহারা অবস্থায় রয়েছে।

 

বুড়বুড়িয়া গ্রামের বাসিন্দা সংবাদকর্মী গোলাম কিবরিয়া জানান, তাঁর বাড়িঘর সম্পূর্ণরূপে পানিতে ডুবে গেছে। এই কথা বলতে গিয়ে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়েন। Read More

 

এছাড়া, বুড়বুড়িয়া গ্রামের অন্তত ২০ জন বাসিন্দা জানান, গতকাল রাত সাড়ে ১১টায় নদীর পানিতে হঠাৎ করে ঘূর্ণন শুরু হয় এবং বাঁধ ভাঙতে শুরু করে। প্রথমে বাঁধটি ১০ ফুটের মতো ভাঙে, পরে এটি ২০ ফুট পর্যন্ত বড় আকারে ভাঙে।

বন্যার ক্ষয়ক্ষতির শিকার নানুয়ার বাজার গ্রামের গৃহবধূ আইরিন আক্তার জানান, কিছু বুঝে ওঠার আগেই সপরিবার তাঁদের ঘর ছাড়তে হয়েছে। কান্নায় ভেঙে পড়া আইরিন বলেন, "১২ বছরের সংসারটা খুব সুন্দরভাবে সাজানো ছিল। পানি সবকিছু নিয়ে নিয়ে গেছে।" Read More

 

বন্যার আতঙ্কে গতকাল রাতে কোলের শিশুকে নিয়ে সারা রাত জেগে ছিলেন একই এলাকার বাসিন্দা সোমা রানী। পানিতে তাঁদের বাড়িঘরও ডুবে গেছে। এখন কোথায় আশ্রয় নিবেন, সেই চিন্তায় তিনি দিশাহারা। নিজের অসহায়ত্ব প্রকাশ করতে গিয়ে তাঁর চোখও ভিজে ওঠে। একপর্যায়ে আঁচলে চোখ মুছেন তিনি।

গোমতীর বাঁধের ভাঙন, কামারখাড়া এবং বালিখাড়া অংশে পাঁচ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। তাদের বাড়িঘরে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং শিশুদের মধ্যে স্বাভাবিক উচ্ছ্বাসের অভাব দেখা দিয়েছে; তাদের চোখ-মুখে আতঙ্কের ছাপ স্পষ্ট। বন্যায় আক্রান্ত পরিবারগুলোর মধ্যে পর্যাপ্ত খাবারের অভাব দেখা দিয়েছে এবং তারা দ্রুত শুকনো খাবার পানির প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন। Read More

 

বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাহিদা আক্তার বলেন, বাঁধ ভাঙার শঙ্কায় গতকাল সন্ধ্যা থেকে স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নেওয়ার জন্য এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। Read More


bZyb bZzb me Lei ‡c‡Z †PvL ivLyb Avgv‡`i eøMmvB‡U

No comments

Powered by Blogger.